রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি ডিগ্রী কলেজে স্থানীয়দের সঙ্গে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। কলেজ প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরার বিরুদ্ধে বহিরাগতদের সাথে দুর্ব্যবহার, শিক্ষকদের সাথে অসদাচরণ এবং অধ্যক্ষের প্রশ্রয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ও সাধারণ শিক্ষকরা।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আসন্ন একটি ধর্মীয় মাহফিলের দাওয়াতপত্র দিতে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি কলেজে প্রবেশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, কোনো উসকানি ছাড়াই কলেজ প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরা তাদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে জয়নগর ইউনিয়নের কৃষকদল নেতা জয়নাল আবেদিন, ব্যবসায়ী শাহাদত ও ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি এজদার আলীসহ কয়েকজন আহত হন।
স্থানীয়দের দাবি, অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও হীরা একান্তে সময় কাটানোসহ নানা বিষয়ে কলেজে বিতর্কিত পরিবেশ তৈরি করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, হীরা দীর্ঘদিন ধরে সহকর্মীদের সাথে অমার্জিত আচরণ করছেন এবং অধ্যক্ষের ওপর একক প্রভাব খাটিয়ে কলেজের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আলেয়া খাতুন হীরা দাবি করেন, আগত ব্যক্তিরা মাহফিলের নামে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছিলেন এবং তাকেই উল্টো মারধর করা হয়েছে। অন্যদিকে, অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ঘটনাটি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, তার দৃষ্টিতে বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ পঞ্চনন্দ সরকার জানান, আমি সদ্য যোগদান করলাম। ঘটনার বিষয়ে তেমন জানিনা। তদন্ত ওসি ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন৷
ঘটনার বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান যে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের সাথে অন্যান্য শিক্ষক এবং ওই এলাকার বাসিন্দাদের আগে থেকেই নানা বিষয়ে মতবিরোধ চলছিল। সম্প্রতি এলাকার লোকজন একটি ইসলামী জলসা বা অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য অধ্যক্ষের কাছে কিছু সহযোগিতা প্রার্থনা করেন। এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির সূত্রপাত হয়।
এই অপ্রীতিকর ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ওসি রফিকুল ইসলাম আশ্বস্ত করেছেন যে, অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।